চরিত্র

Sample photo of Essay

উপস্থাপনা : চিরত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ৷ অর্থ, বিত্ত বংশগৌরব সবকিছুর ঊধ্বে চরিত্রের স্থান। চরিত্রবলে মানুষ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে ৷ জীবনকে করে তুলতে পারে শান্তিপূর্ণ সুখময় । যিনি ন্যায় ও সৎপথে চলেন, তিনিই চরিত্রবান। আর চরিত্রহীন ব্যক্তি পশুর চেয়েও অধম ।

চরিত্রের পরিচয় : চরিত্র বাংলা শব্দ আরবিতে একে আখলাক বলে । চরিত্র  বলতে বোঝায় সচ্চরিত্রকে। সচ্চরিত্র হলো কতকগুলো গুণের সমষ্টি  । সত্যবাদিতা, ন্যায়পর়ায়ণতা, উদারতা, ও বিনয়ের সমন্বিত রূপই হলো চরিত্র। যে ব্যক্তির জীবনে এসব গুণের সার্থক সমাবেশ ঘটে, তাকেই চরিত্তবান বলা হয়।

প্রকারভেদ : চরিত্র দুই প্রকার । যথা- ১। আখলাকে হামিদা বা’ প্রশংসনীয় চরিত্ত ২। আখলাকে যামীমা বা মন্দ চরিত্ত

চরিত্র গঠনের উপায় : চরিত্র গঠন করতে হলে সর্বথম প্রয়োজন সদিচ্ছা। শৈশব-কৈশোরই চরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময়। চরিত্র গঠন করতে হলে শিশুকাল হতেই সুশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কুসংসর্গ সর্বদাই পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ “সৎসঙ্গে স্ব্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।” তাই ধর্মনিষ্জী বনযাপন করতে হবে। শিশুদেরকে ভালো বই ও মহাপুরুষদের জীবনী পড়াতে হবে। চরিত্র গঠনের প্রধান দায়িত্ব মাতাপিতা ও শিক্ষকদের ওপর। কেননা চরিত্র গঠনে সুশিক্ষা ও সৎসাহচর্যই প্রধান। তাই শিশু-কিশোরদেরকে সত্যবাদী, নিষ্ঠাবান, আত্মবিশ্বাসী, সংযমী ও ত্যাগী করে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চরিত্রবান হিসেবে গড়ে উঠবে।

চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা : চরিত্রবান ব্যক্তিকে সকলে ভালোবাসে । সে সমাজে সম্মান ও ভক্তির পাত্র। চরিত্রবান ব্যক্তিকে মানুষ আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি. দ্বারা সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মের বিকাশ এবং উন্নতি ঘটে। সচ্চরিত্র সুখ ও শান্তির মুল। পৃথিবীর সব মহামানবই চরিতরগুণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। চরিত্র মাধূর্যই মানুষকে অমর করে রাখে!

চরিকহীনতার পরিণাম : চরিত্রহীন ব্যক্তির জীবন বৃথা এবং সে মানবসমাজের কলক্ক। তাকে কেউ ভালোবাসে না। এমনকি তার বারা সমাজে নানা পাপাচারের প্রসার ঘটে। তাই সকলে তাকে ঘৃণা করে। কেউ তাকে কাছে নেয় নলা। পরকালেও এর পরিণতি অত্যত্ত ভয়াবহ ।

দৃষ্টান্ত : পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক- চরিত্তবান ব্যক্তির নাম স্বাক্ষরে লেখা রয়েছে। যাদের অবদান-যুগ-যুগান্তর মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আমাদের শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ সাঃ)-কে এ দৃষ্টানের প্রথমেই স্মরণ করতে হয়। কারণ সচ্চরিত্রের যতগুলো গুণ, তার সবই এ মহামানবের চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। হযরত বায়েজীদ বোস্তামী, আবদুল কাদের জিলানী, হাসান বসরী, রাবেয়া বসরী র), দার্শনিক সক্রেটিস, উপমহাদেশের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সবাই চরিত্রে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

উপসংহার : চরিত্তই মানুবের অমূল্য সম্পদ। স্বাভাবিক, সুন্দর ও নির্মল জীবনযাপনের পূর্বশর্ত হলো চরিরবান হওয়া। তাই সম্মান ও গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হতে হলে আমাদেরকে চরিত্তবান হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *